সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি ‎পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর

স্মৃতিপট : মাটি ঘেঁষে চলা আর নেই মোহাম্মদ আব্দুল হক

  • আপলোড সময় : ১৩-১১-২০২৪ ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-১১-২০২৪ ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন
স্মৃতিপট : মাটি ঘেঁষে চলা আর নেই মোহাম্মদ আব্দুল হক
আমি বেড়ে উঠেছি পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাঁসের ছানার সাঁতার দেখতে দেখতে। আমি বেড়ে উঠেছি বড়শিতে ভাত গেঁথে পুকুর থেকে পুঁটি মাছ ধরতে ধরতে। আমি বৃষ্টির দিনে জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে খেলেছি। আমি কৈশোরে ঘরের বারান্দায় কিংবা বিছানায় লুডু খেলেছি। উঠোনে বা বারান্দায় ইটের টুকরো দিয়ে দাগ কেটে ঘর বানিয়ে ষোলোগুটি খেলা খেলেছি। আমরা গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, হাডুডু খেলতে খেলতে পরে ব্যাডমিন্টন খেলার জগতে পৌঁছেছি। আমরা বেড়ে উঠেছি গরুর গাড়িতে চড়ে নীল আকাশে উড়োজাহাজ উড়ে যেতে দেখে দেখে। আমরা চড়–ই পাখির বাসায় হাত দিয়ে চড়–ই পাখির ছানা ধরেছি। আমরা শৈশব থেকে কৈশোরে গাঁয়ের পথে পথে এবং ছোট্ট শহর সুনামগঞ্জের ছোটো ছোটো রাস্তায় পায়ে হেঁটে, কখনও রিকসায় চড়ে বড়ো একটু একটু করে বড়ো হয়েছি। ওইটুকু সময় পাড়ি দিতে দিতে আমরা গ্রামে গেছি সুরমা নদীর উপর লঞ্চে চড়ে, কখনও নৌকায় চড়ে। আমি আমার গ্রামের বাড়িতে গেলে মাটির মেঠোপথে গরুর গাড়ি বা বইসের গাড়ি (মহিষের গাড়ি) চড়ে আমার চৌদ্দ পুরুষের গ্রাম হরিনাপাটি থেকে লক্ষ্মীপুরের পথে ‘হিংগিদাইড়’ নামক একটি জায়গা পর্যন্ত গেছি। তখন ‘হিংগিদাইড়’ ছিলো একটি ছোটোখাটো নদীর মতো এবং সবসময় কাদাজল থাকতো। ওই ‘হিংগিদাইড়’ পারি দেওয়ার সময় গরুর গাড়ির কাঠের চাকা প্রায় সময়ই এটেল মাটির কাদাজলে আটকে যেতো। দুর্বল গরুর পক্ষে ওই কাদাজল থেকে আমাদেরসহ গরুর গাড়ি টেনে তোলা সম্ভব হতো না। আমরা ছেলের দল তখন গরুর গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে যেতাম। এরপর আমরা আর এগোতে সাহস করতাম না। আমরা ‘হিংগিদাইড়’ থেকে পায়ে হেঁটে হেঁটে দুষ্টুমি করতে করতে বাড়ি ফিরে প্রথমে আমাদের দিঘির পাড়ের সিঁড়িতে শরীর থেকে জামা প্যান্ট বিসর্জন দিয়ে দিঘির জলে সাঁতার কেটে গোসল করে ডুব দিয়ে খেলতে খেলতে চোখ লাল করেছি। এরপর পুকুরের পানিকে বিদায় দিয়ে উপরে উঠে মিষ্টি রোদে গা শুকিয়ে বাড়িতে গেছি। আমরা জাম গাছে চড়ে জাম পেড়ে জামায় মুছে মুখে পুরে খেয়েছি কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার মতো- ‘পাকা জামের মধুর রসে / রঙিন করি মুখ।’ আমাদের ছোটোবেলায় গরুর গাড়িতে চড়ে হঠাৎ সামনে আসা ছোটো ছোটো পানি পূর্ণ নালা বা ছোটো নদী পার হওয়ার বিষয়টি ছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতো- “আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে / বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। / পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি / দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।’ এখনকার শহরে বেড়ে উঠা মানুষের গরুর গাড়ি চড়ার অভিজ্ঞতা নেই। এখন অবশ্য গ্রামেও আর গরুর গাড়ির দেখা মিলে না। সেইসব মাটি ঘেঁষে চলা সতেজ সময় আর নাই। বিজ্ঞানের গতিময়তা ও উন্নত প্রযুক্তির কাছে আমাদের দেখা কতোকিছু আমাদের হাত ধরেই অতীত স্মৃতি হয়ে গেছে। লেখক : কলামিস্ট ও সাহিত্যিক

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি